আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় - খেজুরের গুড় খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম! বর্তমান মাস শীতের মাস। আর এই শীতের মাসে বাঙ্গালীদের খুব প্রিয় একটি খাবার হলো খেজুর গুড়। আর তাই এই  শীতে চারিদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে খেজুর গুরের পিঠাখেজুর গুরের পায়েস তৈরির মহোৎসব। এজন্য আপনাকে জানতে হবে আসল খেজুর গুড় চেনার উপায়।
খেজুর গুরের পায়েস রেসিপি, খেজুর গুরের রসগোল্লা এর স্বাদ গুড় প্রেমীদের মন কেড়ে নেয়। তাই শীতের এই মৌসুমে বাঙ্গালীরা পিঠা-পায়েসে খেজুর গুড় ব্যবহার করে থাকে। আর এজন্য আপনি যদি আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় জেনে থাকেন, তাহলে আপনি আসল খেজুর গুড় এর স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।

প্রিয় পাঠক, এই পোস্টটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায়, খেজুর গুর কিভাবে তৈরি হয়, খেজুর গুর খেলে কি হয়, খেজুরের গুড় খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, খেজুর গুরের দাম ২০২৪, খেজুর গুর নিয়ে কবিতা, খেজুর গুর অনলাইন থেকে কিভাবে নিবেন ইত্যাদি। তাই আসল খেজুর গুর চেনার উপায় জানতে হলে এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

পেইজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় - খেজুরের গুড় খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আসল খেজুর গুড়ের ছবি

শীত মানেই খেজুর গুড়ের উৎসব। আর তাই দেশের সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে খেজুর গুড়সহ বিভিন্ন ধরণের গুড়। যেমন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে, তেমনি আবার পাওয়া যাচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে। তাই আপনাকে আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় সম্বন্ধে জানতে হবে। তাই এমনি একটি মান-সম্মত খেজুর গুড়ের ছবি নিচে দেওয়া হলো।

খেজুর গুড় কিভাবে তৈরি হয়

শীতের একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে খেজুর গুড়ের পিঠা, খেজুর গুড়ের পায়েস। এছাড়া অনেকেই আছেন যারা প্রায় সারা বছরই খেজুর গুড় খান। তাই খেজুর গুড় কিভাবে তৈরি হয় তা জানার জন্য অনেকেরই আগ্রহ থাকে। তাই তাদের আগ্রহের কথা ভেবে খেজুর গুড় কিভাবে তৈরি হয় তা নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

খেজুর গুড়ের ইংরেজি বা খেজুর গুড় eaning in English - Date Molasses. খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জমাট বাঁধা পর্যন্ত গুড় তৈরির এই কাজটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথম ধাপঃ খেজুর গাছ থেকে গাছের ডাল ছেঁটে ফেলা হয়। এরপর সেই গাছ থেকে কিছুটা অংশ বাকল তুলে ফেলা হয়। এরপর এক সপ্তাহ রেখে সেই জায়গাটি শুকিয়ে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ধাপঃ প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে আবারও গাছের সেই জায়গাটি কাটতে হয়। এরপর গাছ থেকে রস বের হয়।

তৃতীয় ধাপঃ দ্বিতীয় ধাপ শেষে যখন গাছ থেকে রস বের হয়ে আসে, তখন চাষীরা গাছের সেই অংশে একটি হাঁড়ি বেধে দেন। চাষীরা সন্ধার আগে গাছে হাঁড়ি বেধে দেন, আর পরদিন সকালে সেই হাঁড়ি নিচে নামিয়ে আনেন। এরপর আবারও দুপুরের পর গাছে আরেকটি হাঁড়ি বাঁধা হয়। এই ভাবে গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করা হয়।

চতুর্থ ধাপঃ এই পর্যায়ে সকল সংগ্রহ করা রস একটি বড় পাত্রে বা তাওয়াতে করে জ্বাল দেওয়া হয়। যতক্ষুণ রস জমাট বেঁধে গুড় বানানোর উপযোগী না হয়, ততোক্ষুণ জ্বাল দেওয়া হয়। এই ভাবে প্রায় ২/৩ ঘন্টা জ্বাল দিতে হয়। জ্বাল দেওয়ার সময় যে ফেনা তৈরি হয়, সেগুলো তুলে ফেলতে হয়।

পঞ্চম ধাপঃ চতুর্থ ধাপ শেষ হলে এবার সেই পাত্র বা তাওয়াটিকে আধা ঘন্টা ঠান্ডা করতে হয়। রস ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর কমে গিয়ে পাত্রের এক অংশে জমে থাকে। এরপর আলাদা রস দিয়ে সেই ঘষা হয় এবং এর রং তখন সাদা আকার ধারণ করে।

এই সাদা অংশটিকে বীজ বলা হয়। আর এই বীজ দিয়ে সমস্ত রসে মিশিয়ে নাড়া হয়। এরফলে সমস্ত রস গাড় হয়ে গুড় তৈরি হয়। আর এই ভাবেই তৈরি হয় আসল খেজুরের গুড়।

খেজুর গুরের পিঠা

শীত আসলেই যেন খেজুর গুড়ের পিঠা-পুলির মহোৎসব শুরু হয়ে যায় বাঙ্গালীর চারিদিকে। ঘরে ঘরে বিভিন্ন বাহারি পিঠার আয়োজন যেন উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে খেজুর গুড়ের দুধ চিতই পিঠা, খেজুর গুড়ের পিঠা, খেজুর গুড়ের চুই পিঠা ও খেজুর গুরের রসগোল্লা অন্যতম।
খেজুর গুড়ের পিঠা সমূহের মধ্যে এখন আমি খেজুর গুড়ের দুধ চিতই পিঠা কিভাবে বানাবেন, সে সম্পর্কে একটি ছোট্ট রেসিপি তুলে ধরবো।

যেভাবে বানাবেন খেজুর গুড়ের পিঠা

যেভাবে বানাবেন খেজুর গুড়ের পিঠা এই রেসিপিটি পড়ে জেনে নিন। এটি বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো- আধা কেজি চালের গুঁড়া, দুধ ২-৩ কেজি, খেজুর গুড়ের কুচি ২ কাপ, লবণ ১ চিমটি, চিনি ২-৩ টেবিল চামচ, নারকেল কুচি আধা কাপ, পরিমাণ মতো তেল ও পরিমাণ মতো পানি।
দুধ চিতই বানানোর জন্য প্রথমে একটি পাত্রে পানি, দুধ খেজুর গুড় কুচি একসাথে জাল দিয়ে নিন ও ঢেকে রাখুন। এরপর চালেল গুড়া, নারিকেল কুচি ও ১ চিমটি লবণ এক সাথে মিশিয়ে মাঝারি ঘনত্বের একটি গোলা বানিয়ে নিন ও চুলায় দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর গোলা গরম হয়ে উঠলে তা নামিয়ে নিন।

এরপর চিতই পিঠার ছাঁচে সামান্য পরিমাণ তেল মাখিয়ে নিন। ছাঁচে পিঠার গোলা ঢেলে ৩-৪ মিনিট ভেজে ছাঁচ থেকে তুলে নিন ও একটি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। সবগুলো চিতই পিঠা তৈরি হয়ে গেলে এবার গরম রসের মধ্যে রেখে ঢেকে দিন। এইভাবে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখন। এরপর খাবার জন্য পরিবেশন করুন।

খেজুর গুড়ের পায়েস রেসিপি

প্রিয় পাঠক, শীত আসলেই বাঙ্গালীর খুব প্রিয় খাবার এর মধ্যে খেজুর গুড়ের পিঠা ও খেজুর গুড়ের পায়েস অন্যতম প্রধান। কারণ খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি এই সব মিষ্টান্ন খাবারের স্বাদ অনেক গুণ বেড়ে যায়। তাই এখন আমি খেজুর গুড়ের পায়েস রেসিপি কিভাবে করবেন, সেই সম্পর্কে আপনাকে একটি বিশেষ ধারণা দিয়ে দেবো।

খেজুর গুড়ের পায়েস রেসিপি তৈরির সহজ পদ্ধতি জেনে নিন। খেজুর গুড়ের পায়েস তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় যে সব উপকরণ লাগবে তা হলো - ২ লিটার দুধ, আধা কাপ আতপ চাউল, দুই কাপ খেজুর গুড়ের কুচি, স্বাদমতো চিনি, ১ চিমটি লবণ, তেজপাতা ১টা, দারুচিনি ১টা, এলাচ ১টা।

খেজুর গুড়ের পায়েস তৈরির জন্য প্রথমে আতপ চাউল ভাল ভাবে ধুয়ে একটি পাত্রে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর আবারও ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

খেজুর গুড়ের পায়েস রেসিপি তৈরি করার দ্বিতীয় ধাপে একটি বড় পাত্রে দুধ জ্বাল দিন। দুধ যখন ফুটবে, তখন এতে লবণ, সামান্য গুড় ও চাউল দিয়ে ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন এবং সব উপকরণ এক সাতে মিশিয়ে নিন।
এভাবে চাউল সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত নাড়তে থাকুন। চাউল সিদ্ধ হলে এবার খেজুর গুড় কচির বাকি অংশ মিশিয়ে দিন ও নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষুণ এভাবে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল খেজুর গুড়ের পায়েস। এরপর ঠান্ডা হলে পাত্রে ঢেলে এর উপর খেজুর গুড় কুচি ও বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

খেজুর গুরের দাম ২০২৪

এই বছর খেজুর গুড়ের দাম ১৮০ টাকা থেকে ৩৫০টাকা কেজি দরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝোলা গুড় প্রতি কেজি ১৬০টাকা থেকে ১৮০টাকা কেজি দরে বাজারে পাওয়া যায়। এভাবে পেশাদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর খেজুর রস থেকে গুড় তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন। 

খেজুর গুর নিয়ে কবিতা

খেজুর গুড় নিয়ে অনেকেই অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখেছেন। এর মধ্যে যোগেশ বিশ্বাস খেজুর গুড় নিয়ে যে কবিতা লিখেছেন, সেটি নিম্নে তুলে ধরলাম।

খেজুর গুড়

               যোগেশ বিশ্বাস

শীতের রাতে খেজুর গাছে
যে রস আছে বাংলা দেশে,
কোথায় গেলে সে রস পাবে
ভালবাসার মিষ্ঠি স্বাদে!

হাজু দাদার আলিঙ্গনে
মাথা নোয়াতে খেজুর গাছ,
তীক্ষ্ণ দা’য়ের সুক্ষা তা’য়ে
হাজু দাদার ভালবাসা
নলিন দেওয়া প্রথম প্রেম।

বিন্দু বিন্দু ফল্গু ধারা
জমতে থাকে রাত্রি সারা
খড়ের আগুনে জ্বালিয়ে  নেওয়া  ভাঁড়ে।

সেই  সকালের রসের আকর
খেজুর পাতার আঁচে
নানা ফুটের ভাঁজে ভাঁজে
এক প্রহরের সময় নিয়ে
তৈরি হতো সু-গন্ধে সুখ
ছড়িয়ে যেত বাতাসে  দূর
নলিন দেওয়া খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের উপকারিতা

শীতকালে খেজুর গুড় সবার কাছেই খুব প্রিয়। মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন খাবার বানাতে খেজুর গুড়ের তুলনাই হয় না। তাই পুষ্টিবিদরা বলেছেন, চিনির চেয়ে গুড় খাওয়া হবে অনেক বেশি স্বাস্থকর। আর বিভিন্ন ধরণের গুড়ের মধ্যে খেজুর গুড়ে অনেক বেশি পুষ্টি থাকে। তাই খেজুর গুড়ের উপকারিতা নিয়ে নিচে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো।

ঠান্ডা - কাশি দূর করেঃ শীতের মধ্যে শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা দূর করতে খেজুরের গুড় অনেক উপকার করে। শ্বাসকষ্টজনিত হাঁপানি সমস্যায় খেজুর গুড় ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন সমৃদ্ধঃ খেজুরের গুড়ে যে সব পুষ্টি উপাদান থাকে তা শরীরের কার্যক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এতে যে খনিজ উপাদান লৌহ  ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে তা শরীরে রক্ত উৎপাদনে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ খেজুর গুড়ে উচ্চ পটাসিয়াম থাকে। আর তাই এই উপাদান শরীর থেকে পানি কমিয়ে ওজন কমিয়ে আনে।

শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করেঃ শরীরে ক্লান্তি ও দূর্বলতা দেখা দিলে খেজুর খাওয়া খুব উপকারী। কারণ, এতে যে যৌগ উপাদান আছে তা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে।

পেটের ব্যথা  কমায়ঃ মাসিকের ব্যথা সমস্যায় খেজুর খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে পেটে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় ও পেট ব্যথা করে। এই সময় খেজুর গুড় খেলে পেটের ব্যথা অনেকটা কমে যায়।

হাড় মজবুত ও সংযোগস্থলের ব্যথা কমায়ঃ খেজুর গুড় খেলে হাড়  মজবুত হয় ও শরীরের বিভিন্ন হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমায়। খেজুর গুড়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, তাই এটি হাড় মজবুত করতে ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

লিভার ভালো রাখেঃ লিভার ভালো রাখতে খেজুর গুড়ের উপকারিতা অনেক। কারণ, এতে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম ও পটাসিয়াম রয়েছে যা আমাদের পেশি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেজুর গুড় খেলে শরীরের ওজন ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

ত্বক ভালো রাখেঃ আপনার শরীরের ত্বক ভালো রাখতে খেজুর গুড়ের উপকারিতা অনেক। নিয়মিত খেজুর গুড় খেলে ত্বক মসৃণ হয় ও চেহারায় উজ্জলতা বাড়ে। এটি ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর করতে খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

খেজুর গুড়ের অপকারিতা - খেজুর গুড় খেলে কি হয়

প্রিয় পাঠক, খেজুর গুড়ের উপকারিতা যেমন অনেক, তেমনি খেজুর গুড়ের অপকারিতাও আছে। তাই খেজুর গুড় খেলে কি হয় ও  খেজুরের গুড়ের অপকারিতা গুলি নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ

রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়ঃ খেজুর গুড় যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি আবার এটি অতিরিক্ত যদি খাওয়া হয়, তাহলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ওজন বৃদ্ধির কারণঃ যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের জন্য খেজুর গুড় না খাওয়ায় ভালো। কারণ, প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরের গুড়ে থাকে ৩৮৫ ক্যালরি। তাই খেজুর গুড় অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

জীবাণু সংক্রমণঃ যেহেতু গুড় তৈরি হয় সিংহভাগই গ্রামে। তাই অধিকাংশ সময়েই গুড় তৈরির স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয় না। আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় তৈরি হলে এটি অন্ত্রে বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণের বা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নাক দিয়ে রক্তক্ষরণঃ খেজুর গুড় যেমন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তেমনি এটি আবার গ্রীষ্মকালে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত খেজুরের গুড় খেলে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

হজমের সমস্যাঃ যখন সদ্য গুড় তৈরি হয়, তখন যদি এই সদ্য গুড় খাওয়া হয়, তাহলে এর কারণে বদহজম হতে পারে, এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে। আবার দেহের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায়

আসুন এবার জেনে নিই আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় বা খেজুর গুড় চেনার উপায় বা খাঁটি খেজুরের গুড় চেনার উপায় বা অরিজিনাল খেজুরের গুড় চেনার উপায়। কিছু সহজ উপায় আছে, যেগুলো আপনি একটু খেয়াল করলেই আসল গুড় চিনতে পারবেন।

দেশে যেসব খেজুর গুড় তৈরি করা হচ্ছে, তাতে অনেক ভেজাল দেখা যায়। কারণ, এখন ব্যবসায়ীরা তাদের অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আসায় খেজুর গুড় তৈরিতে ব্যবহার করছেন কৃত্রিম চিনি ও রাসায়নিক রং। তাই এইসব গুড়ে আসল স্বাদ ও গন্ধ থাকে না।
আর একদিকে যেমন আপনি পাচ্ছেন খেজুরের ভেজাল গুড়, তেমনি আবার এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর খেজুরের গুড় আসল না ভেজাল তা চেনার কিছু উপায় আছে। তাই আপনাকে আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় আপনাকে জানতে হবে। আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায় গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

গুড়ের রং দেখে কেনাঃ আপনি যখন খেজুর গুড় কিনবেন, তখন অবশ্যই এর রং দেখে কিনবেন। কারণ, খেজুর গুড়ের রং দেখেই অনেক সময় তা চেনা যায় যে খেজুরের গুড় আসল না নকল। যদি গুড় আসল হয়, তাহলে এর রং হবে গাঢ় বাদামি। যদি এর রং হলদে ভাব থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এতে কেমিক্যাল মেশানো আছে।

গুড় শক্ত না নরম তা দেখে নেওয়াঃ খেজুরের গুড়ে যদি কেমিক্যাল, হাইড্রোজ ও ফিটকিরি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়, তাহলে এর গায়ের রং সাদা হবে ও চকচক করবে এবং এটি খুব শক্ত হবে। গুড়ের পাটলি যদি হয় নরম ও রসালো, তাহলে বুঝবেন এটি আসল খেজুরের গুড়। আর এই খাঁটি পাটলির রং হবে কালচে লাল।

স্বাদ চেখে দেখাঃ আপনি যখন খেজুর গুড় কিনবেন, তখন এর সামান্য অংশ মুখে দিয়ে চেখে নিন। যদি এর স্বাদ নোনতা বা তেতো হয়, তাহলে বুঝবেন, এটি ভেজাল মিশ্রিত গুড়। কারণ, পুরনো ও ভেজাল গুড় নোনতা হয়। আর গুড়ের মিষ্টতা বাড়াতে কেমিক্যাল ব্যবহৃত হলে তা তেতো হবে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, খেজুর নিয়ে এতোক্ষুণ অনেক কথায় বললাম, যার দ্বারা আপনি জানতে পেরেছেন আসল খেজুরের গুড় চেনার উপায়। খাঁটি খেজুরের গুড় চেনার উপায় জানার সাথে সাথে আপনি আরো জানতে পেরেছেন খেজুর গুড়ের উপকারিতা ও খেজুর গুড়ের অপকারিতা।

শেষ কথা হিসেবে একটি কথা বলতে চাই, অরিজিনাল খেজুরের গুড় চেনার উপায় এই পদ্ধতিটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে এই পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করুন যাতে আপনার মতো করে আরো সবাই জানতে পারে জানতে পারে। এতক্ষুণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। (শওকত রাশেল)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ওয়ানলাইফ আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url