হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা - পর্ব - ০৫ প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা

আসসালামু আলাইকুম! প্রিয় পাঠক, আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনার সকলেই ভালো আছেন। আজকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবো ইনশায়াল্লাহ! পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? কিভাবে মক্কায় মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল?
প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা হিসেবে আপনি জানতে পারবেন আরবদেশে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল কিভাবে? মক্কায় মূর্তি পূজার নতুন ইতিহাস, কাবা ঘরে সর্ব প্রথম কার মূর্তি তৈরি করা হয়? কাবা ঘরে কয়টি মূর্তি স্থাপন  করা হয়? এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন এই পোস্টটি পড়ে। তাই এই সকল তথ্য জানার জন্য এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

পেইজ কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা - পর্ব - ০৫ প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা

পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে?

সর্বপ্রথম মূর্তি পূজা কবে শুরু হয়? মূর্তিপূজার ইতিহাস pdf, পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? তা জানার জন্য এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। এই পোস্টটি পড়ে প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন।

পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? মূর্তি পূজার কবে থেকে পচলন হয়? মূর্তি পূজার সূচনা হয়েছিল যেভাবে। এটা আলোচনা করার জন্য এখন আমাদেরকে হযরত নূহ আঃ এর সময়ের কিছু ঘটনায় চলে যেতে হবে।

পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদম আঃ ও হযরত হাওয়া আঃ। তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের বংশধররা পর্যায়ক্রমে পৃথিবীতে বসবাস করতে থাকে। আর তারা তাদের বাপ-দাদা হযরত আদম আঃ এর পালিত ধর্ম ইসলাম অনুযায়ী আল্লাহ’র ইবাদত করতে থাকে। এতে করে তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাতে পরিণত হয়। এতে করে শয়তান রাগান্বিত হয় ও তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার কৌশল খুঁজতে থাকে।

হযরত আদম আঃ থেকে হযরত নূহ আঃ এর মধ্যবর্তী ব্যবধান ছিল প্রায় দশ শতাব্দী। হযরত নূহ আঃ এর সময়ে সেই সব জনপ্রিয় লোকেরা মৃত্যুবরণ করলে সাধারণ লোকেরা খুব গভীরভাবে শোকাহত হয়েছিলেন।

এই সুযোগে শয়তান মানুষের ‍রুপ নিয়ে তাদেরকে গিয়ে বললো, ‘আল্লাহ’র  প্রিয় বান্দাদের প্রতি তোমরা কেমন দুঃখ ও শোক প্রকাশ করো?’ তখন তারা বললো, ‘অনেক বেশি’। তখন শয়তান আবার বললো, ‘তোমরা তাদের মূর্তি বানাও, তাহলে তোমরা সর্বদা তাদের স্মৃতি স্মরণ করতে পারবে।’

শয়তান তাদেরকে যুক্তি দিল, ‘তোমরা যদি মূর্তি গুলোকে সামনে রেখে ইবাদত করো, তাহলে তাদের স্মরণ করে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি তোমাদের অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে।’ তখন সাধারণ লোকেরা এটা মেনে নিল এবং তারা মূর্তি গুলোকে ধার্মিকদের জন্য একটি স্মৃতি হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

কিন্তু বছর পেরিয়ে যাবার পর যখন ঐ সমস্ত লোকজন মৃত্যুবরণ করে, তখন শয়তান নূহ আঃ এর লোকদেরকে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে আর বলে, ‘তোমাদের বাপ-দাদারা এই সমস্ত মূর্তির পূজা করতেন ও এদের ওসিলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করতেন ও তাতে বৃষ্টি হতো। তিনিই আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং মেঘের গতিপথ সৃষ্টি করেছেন।
শয়তানের এই কুমন্ত্রণা শুনে সাধারণ লোকজন আল্লাহকে বাদ দিয়ে সরাসরি মূর্তি পূজা শুরু করে দিলো। অতঃপর এভাবেই পৃথিবীতে মূর্তি পূজা শুরু হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হা/৪৯২০)

মূর্তিপূজার ইতিহাস pdf, সর্বপ্রথম মূর্তি পূজা কবে শুরু হয়? পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

আরবদের ধর্মীয় অবস্থা

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে আগে আমর জেনে নিই হযতর মুহাম্মদ (সাঃ) এর আগমনের পূর্বে প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা কেমন ছিল। তাই মক্কায় মূর্তি পূজার সূচনা হয়েছিল যেভাবে হয়েছিল তা জানার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

একত্ববাদী ধর্ম-বিশ্বাস

হযরত ইব্রাহিম আঃ পবিত্র দীন ছিল একত্ববাদী ধর্ম। হযরত ইব্রাহিম আঃ এর পরে তাঁর প্রথম পুত্র হযরত ইসমাইল আঃ এর দাওয়াত ও প্রচারের ফলে প্রাক আরবের সবাই তখন একত্ববাদী আল্লাহ’র অনুসারী ছিল।

কিন্তু কালের আবর্তনে আরবদেশ থেকে ক্রমশ আরববাসীগণ একত্ববাদ থেকে দূরে সরতে থাকে। কিন্তু এইসব সত্বেও আল্লাহর একত্ববাদ ও দীনে ইব্রাহিম আঃ এর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য থেকে যায়। এই সকল বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন পরেও বনু  খুযাইমা গোত্রের সর্দার আমর বিন লোহাই এর মাঝে বিদ্যমান থাকার ফলে তিনি জনসম্মুখে এসে উপস্থিত হন।

ধর্মীয় মতাদর্শের লালন ও পৃষ্টপোষকতা, দান-খয়রাত এবং ধর্মীয় বিষয়াদির প্রতি তার গভীর  অনুরাগের কারনে লোকজন তার প্রতি গভীর শ্রোদ্ধা পোষণ করতে থাকে। আর সেই সাথে বড় বড় আলিম ও সম্মনিত ওলীদের দলভুক্ত ধরে নিয়ে তার অনুসরণ করতে থাকে।

মূর্তি পূজার প্রচলন

আরবদেশে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল কিভাবে? কিভাবে মক্কায় মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল? মক্কায় মূর্তি পূজার নতুন ইতিহাস, মক্কায় মূর্তি পূজার সূচনা হয়েছিল যেভাবে তা জানতে পারবেন এই অনুচ্ছেদটি পড়লে। তাই প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা জানার জন্য এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

আমর বিন লোহাই একবার সিরিয়া ভ্রমণে যান এবং সেখানে গিয়ে তিনি মূর্তিকে পূজা-আর্চনার অধ্যয়ন ও নিবিষ্ট চর্চা প্রত্যক্ষ করেন। শামদেশ বা সিরিয়া অনেক পয়গম্বরের জন্মভূমি এবং ঐশী বাণী নাজিলের ক্ষেত্র হওয়ায় সেসব মূর্তি পূজাকে তিনি অধিকতর ভালো ও সত্য বলে ধারণা করেন।

কাবা ঘরে সর্বপ্রথম কার মূর্তি তৈরি করা হয়? তাই আমর বিন লোহাই দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় ‘হোবল’ নামক একটি মূর্তি সাথে নিয়ে আসেন এবং সেটা কাবা ঘরের মধ্যে স্থাপন করে পূজা-আর্চনা শুরু করেন। কালবিলম্ব না করে হেজাজবাসীগণও মক্কাবাসীর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকে। (শাইখ  মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন নাজদি (র) মুখতাসার সীরাতুর রাসুল, পৃঃ১২)
এইভাবে একত্ববাদী আরববাসী অবলীলায় মূর্তি পূজার  মতো অতি জঘন্য এবং ঘৃণিত পাপাচার ও দুষ্কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এই ভাবেই মক্কায় মূর্তি পূজার নতুন ইতিহাস শুরু হয়। (নাউজুবিল্লাহ)

এরপর তায়েফে ‘লাত’ নামক মূর্তির প্রতিষ্ঠা ও পূজা শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে আরব উপত্যকায় ‘উজা’ নামক মূর্তির পূজা শুরু হয়ে যায়। এই তিনটি মূর্তি ছিল আরবের সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত মূর্তি। এরপর হেজাজের বিভিন্ন অংশে শিরক ও মূর্তি পূজার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটতে থাকে।

কাবাঘরে কয়টি মূর্তি স্থাপন করেছিল?

কাবাঘরে কয়টি মূর্তি স্থাপন করেছিল? কাবা ঘর কবে নির্মিত হয়? ইতোপূর্বে আলোচনা  কর হয়েছে, তা জানার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন। এরপর মক্কার মুশরিকরা একের পর এক মূর্তি দিয়ে মসজিদে হারামকে পরিপূর্ণ করে তোলে। বর্ণিত আছে যে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে মসজিদুল হারামের ৩৬০টি মূর্তি ছিল।

মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুুল্লাহ (সাঃ) তাঁর মুবারক হাত দিয়ে মূর্তিগুলোকে ধ্বংশ করেছিলেন। একের পর এক তিনি মূর্তিগুলোকে মসজিদে হারামের বাইরে নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। (শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন নাজদী, মুখতাসার সীরাতুর রাসুল, পৃঃ১৩)

মূর্তি অর্থ - মূর্তি Meaning in English - মূর্তি অর্থ in English

মূর্তি এর ইংরেজি কি? মূর্তির সমার্থক শব্দ ও মূর্তি অর্থ হলো আকৃতি, আকার, দেহ, চেহেরা, প্রতিমা যার আক্ষরিক অর্থ হলো বস্তুগত উপাদান থেকে উৎপন্ন সুনির্দিষ্ট আকৃতি। মূর্তি Meaning in English বা মূর্তি অর্থ in English হলো Statue.

মূর্তির কাছে প্রার্থনা

এরপর মুশরিকগণ মূর্তির পাশে বসে তাদের নিকট আশ্রয় অনুসন্ধান ও উচ্চকন্ঠে তাদের আহ্বান জানাত। অভাব মোচন ও বিপদাপদ হতে উদ্ধারের জন্য অনুনয়-বিনয় সহকারে তাদের নিকট প্রার্থনা জানাত।

প্রার্থনাকারীগণ মনে করত, তাদের মূর্তিরুপি এই সকল দেব-দেবী তাদের প্রার্থনা কবুল করার জন্য আল্লাহ’র দরবারে সুপারিশ করবে, যা তাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। (নাউজুবিল্লাহ)

মূর্তি পূজা সম্পর্কে মহান আল্লাহর কিছু বাণী। মূর্তি পূজা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, অর্থঃ “তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তির পূজা করছো আর মিথ্যা বানাচ্ছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করো, তারা তোমাদের জন্য  রিযিজ  দানের কোন ক্ষমতা রাখে না। তাই আল্লাহর নিকট রিযিক তালাশ করো আর তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরাঃ আনকাবূত, আয়াত-১৭)

মূর্তিকে প্রদক্ষিণ ও সিজদা করা

প্রাক আবরবাসীগণ তখন মূর্তিকে উদ্দেশ্য করে হজ্জ্ব সম্পন্ন করতো, মূর্তিকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করতো এবং মাথা ঝাকাত। আর তাদের সামনে অত্যন্ত ভক্তি ও বিনয়াবনত আচরণ করতো।

মূর্তি পূজা নিয়ে কোরআনের আয়াত। মূর্তি পূজা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন, অর্থঃ “সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিবে না। আর তারা তাদের ডাক সম্বন্ধে অবহিতও নয়। যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করবে।” (সূরা আহকাফ, আয়াত ৫-৬)

মূর্তির উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া

সেই সময় মূর্তির জন্য বিভিন্ন মানত এবং কুরবানি উৎসর্গ করা হতো। উৎসর্গকৃত জীব জন্তুগুলোকে মূর্তির বেদিমূলে তার নাম নিয়ে জবেহ করা হতো। ঘটনাক্রমে অন্য কোথাও জবেহ করা হলেও মূর্তির নাম নিয়েই তা করা হতো।
ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য হারাম। তাদের উৎসর্গকৃত পশু জবেহ করা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কুরআন  মাজিদে উল্লেখ করেছেন, অর্থঃ “ঐ সমস্ত পশুও হারাম যেগুলো মূর্তির বেদিমূলে জবেহ করা হয়েছে।” (সূরাঃ আল-মায়িদা, আয়াত-৩)

আল্লাহপাক কুরআনের অন্যত্র এরশাদ করেছেন, অর্থঃ “ঐ সমস্ত পশুর গোশত খেয়ো না যাকে আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করা হয়েছে। অর্থাৎ  গায়রুল্লাহর নামে জবেহ করা হয়েছে।” (সূরাঃ আল-আনআম, আয়াত-১২১)

মূর্তির জন্য মানত

মূর্তি এর ইংরেজি কি? মূর্তির ইংরেজি শব্দ হলো Statue. প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা যেরকম ছিল। মূর্তির নৈকট্য লাভের আরো একটি রীতি এমন ছিল যে, মুশরিকরা শস্যাদি এবং চতুষ্পদ জন্তুর ব্যাপারে বিভিন্ন রকম মানত করতো

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, অর্থঃ “আর মুশরিকরা (ধারণা করে) বলতো যে, এ চতুষ্পদ জন্ত এবং শস্যক্ষেত্র এটা কারো জন্য বৈধ নয়; কিন্তু আমরা যাকে ইচ্ছে করি, সে ছাড়া অন্য কেউ তা ভক্ষণ করতে পারবে না। আর কতকগুলো পশু যাদের ওপর আরোহণ করা কিংবা বোঝা চাপানো হারাম করা হয়েছে। আরো কতকগুলো পশু জবেহ করার সময় এর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না।” (সূরাঃ আল-আনআম, আয়াত-১৩৮)

গণক ও তিরকে বিশ্বাস

তির অর্থ কি? তির শব্দের অর্থ হলো শর, বাণ, ধনুকের সাহায্যে নিক্ষেপ করতে হয় এমন অস্ত্র। আরবের মুশরিকরা ‘আযলাম’ অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কর্ম সম্পর্কে ফলাফল নির্ণয়ের জন্য তির ব্যবহার করতো। ভবিষ্যৎ কর্ম সম্পর্কিত ফলাফল নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত  তিরগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যেমন-
  • প্রথম শেণিভুক্ত তীর গুলোর গায়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ লিখা থাকতো। এই শেণির তির গুলো সাধারণত বিয়ে-শাদি, ভ্রমণ এবং অনুরুপ অন্য কোন কার্যোপলক্ষে ব্যবহৃত হতো।
  • দিতীয় শ্রেণিভুক্ত তিরগুলোর গায়ে লেখা থাকতো ‘পানি’, ‘দিয়াত’ বা অন্য কোনকিছু।
  • তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত  তিরগুলোর গায়ে লেখা থাকতো ‘তোমাদের অন্তভূক্ত’, কোনটির গায়ে লেখা থাকতো ‘তোমাদের ছাড়া’। এছাড়া কোনটির গায়ে লিখা থাকতো ‘মুলহাক’ (যার অর্থ হচ্ছে মিলিত)।
এই সকল তির গুলো সাধারণত বিয়ে-শাদি, ভ্রমণ, ভাগ্য নিণয় ও  বংশ-পরিচয়ের ব্যপারে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তখন ‘হোবল’ নামক মূর্তির নিকটে গিয়ে ব্যবহার করা হতো। সেখানে মূর্তির সামনে একশত উট নিয়ে যাওয়া হতো।

তাদের বাছাইকৃত তিরগুলো উপরে নিক্ষেপ করে নিচে পতিত হওয়ার সময় যে উটের উপর পড়তো, সেই উটটিকে জবেহ করে বিলি-বন্টন করে দেওয়া হতো।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়াল এরশাদ করেন, অর্থঃ “আর যে সকল পশুকে পূজার বেদীতে বলি দেয়া হয়েছে তা আর জুয়ার তির দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এগুলো পাপ কাজ। (সূরা মায়িদা, আয়াত-৩)

ভাগ্য নির্ণয়ের জন্য তির ব্যবহার

আরব মুশরিকদের মধ্যে প্রচলিত একটি প্রথা ছিল জুয়া খেলা। জুয়া খেলার ক্ষেত্রে ভাগ্য নির্ণয় বা অনুরুপ কোন কিছুর জন্য তির ব্যবহার করতো। এই সকল তির উপরোক্ত নিয়মে ব্যবহার করা হতো।

এই তির সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়াল এরশাদ করেন, অর্থঃ “হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ  ও জুয়া আর প্রতিমা-মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারক তির সমূহ অপবিত্র শয়তানের কাজ, তাই তোমরা তা পরিহার করো যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা মায়িদা, আয়াত-৯০)

যাদুতে বিশ্বাস

আরবের মুশরিকরা তথাকথিত ভবিষ্যদ্বক্তা জাদুকর এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদগণের ভবিষ্যদ্বাণী, কলাকৌশল এবং কথাবার্তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতো।

ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস

সেই সময় সমাজে আরো এক ধরনের লোক ছিল যারা মানুষের কথা ও কর্মের উপর অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতো।

জ্যেতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস

আকাশমন্ডলে তারকারাজির গতিবিধি, উদয়-অস্ত, গমনাগমন ইত্যাদি লক্ষ্য করে ভবিষ্যতের আবহাওয়া কিংবা ঘটতে পারে এমন কোন ঘটনা, কিংবা দূর্ঘটনা সম্পর্কে আভাস প্রদান হচ্ছে জ্যোতির্বিদগণের কাজ। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ২য় খন্ড ২ ও ৩পৃ)

তাদের চিন্তা-চেতনার প্রভাব আজও যেমন জন সমাজে লক্ষ করা যায়, সেকালেও তেমনি ছিল।

ভালো-মন্দ ফলের জন্য তিয়ারাহ প্রথায় বিশ্বাস

‘তিয়ারাহ’ হলো মুশরিকদের একটি প্রথা যা ভালো-মন্দ যাচাই এর জন্য এই প্রথাকে বিশ্বাস করতো। আরবের মুশরিকরা কোন কাজ-কর্ম শুরু করার পূর্বে কাজর ফল ভালো হবে না মন্দ হবে, তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য তাদের মনগড়া এই প্রথা আবিষ্কার করে।

শুভ-অশুভ ধারণায় বিশ্বাস

কুসংস্কার অর্থ কি? কুসংস্কার এর সমার্থক শব্দ ভ্রান্ত বা অন্যায় ধারণা, প্রথা, ধর্মবিশ্বাস বা রীতি। সেই সময় আরবের মুশরিকরা শুভ-অশুভ ধারণায় বিশ্বাস করতো। অশুভ কোন কিছুর প্রভাব কাটানোর জন্য খরগোশরে পায়ের গোড়ালির হাড় ঝুলিয়ে রাখা হতো।
সপ্তাহের কোন কোন দিন অশুভ, কোন কোন মাস অশুভ, কোন দিন মহিলার দর্শণ অশুভ, দিন-রাতের কোন কোন সময় অশুভ ইত্যাদি নানা কুসংস্কার তাদের মাঝে প্রচলিত ছিল। কলের বসন্ত ইত্যাদি মহামারীকে কোন অশুভ শক্তির প্রভাব বলে বিশ্বাস করা হতো।

তাদের এ বিশ্বাস ছিল যে, কেউ কোন লোককে হত্যা করলে যতক্ষুণ না তার প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয়, ততক্ষুণ সে আত্মা শান্তি পাবে না। সে আত্মা প্যাঁচায় পরিণত হয়ে জনশূ্ন্য প্রান্তরে ঘোরাফেরা করতে থাকে। (সহিহ বুখারি, ২য় খন্ড, পৃঃ ৮৫১-৮৫৭)

শেষ কথা

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে আজকে প্রাক আরবদের ধর্মীয় অবস্থা নিয়ে কিছু বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মক্কায় কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল? কাবা ঘরে সর্বপ্রথম কার মূর্তি তৈরি করা হয়? কাবা ঘরে কয়টি মূর্তি স্থাপন করেছিল? পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? আশা করি, এই বিষয়গুলো ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছেন।

সব শেষে, একটি কথায় বলতে চাই, মুসলিম হিসেবে আমাদের এই সকল বিষয় গুলো জানা প্রয়োজন। আর তাই আশা করি, এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছে। আর এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে অন্যেরাও পড়ে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ। (শওকত রাশেল)


পোস্ট ট্যাগঃ
কাবা ঘর কবে নির্মিত হয়? আরবদের ধর্মীয় অবস্থা, মূর্তি অর্থ, মূর্তির সমার্থক শব্দ, মূর্তি meaning in english, মূর্তি এর ইংরেজি কি? মূর্তিপূজার ইতিহাস pdf, মক্কায় মূর্তি পূজার নতুন ইতিহাস, কিভাবে মক্কায় মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল? আরবদেশে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছিল কিভাবে? মক্কায় মূর্তি পূজার সূচনা হয়েছিল যেভাবে, কাবা ঘরে সর্বপ্রথম কার মূর্তি তৈরি করা হয়? কাবাঘরে কয়টি মূর্তি স্থাপন করেছিল? কাবা ঘরের 360 টি মূর্তি কিসের ছিল? সর্বপ্রথম মূর্তি পূজা কবে শুরু হয়? পৃথিবীতে কিভাবে মূর্তি পূজা শুরু হয়েছে? কুসংস্কার অর্থ কি? কুসংস্কার এর সমার্থক শব্দ, কুসংস্কার এর ইংরেজি, কুসংস্কার Meaning in English.

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ওয়ানলাইফ আইটিরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url